অবকাঠামো, জ্বালানিতে ফরাসি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পাশাপাশি শহুরে অবকাঠামো, জ্বালানি ও সমুদ্র অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগের জন্য ফরাসি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দেশটির ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এমইডিইএফ ইন্টারন্যাশনালের নেতাদের সঙ্গে সভায় অর্থনীতির শক্তি ও বিদেশিদের জন্য নানা সুবিধার কথা তুলে ধরে এ আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৪৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে এবার। সহযোগিতার নতুন সম্ভাব্য নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে এটা একটা বড় সুযোগ বলে আমি মনে করি।”

গত বছর ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অপার সুযোগ ও সম্ভাবনার দেশ; এই অঞ্চলে সবচেয়ে বিনিয়োগবান্ধব দেশও।

ফরাসি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দুই দেশের মধ্যে গতানুগতিক ক্ষেত্র ছাড়াও শহুরে অবকাঠামো, জ্বালানি ও সমুদ্র অর্থনীতি খাতে আরও ফরাসি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি।

“এসব ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টায় সহায়তা পেতে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”

মুক্তিযুদ্ধের পর দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, স্বাস্থ্য ও পয়ঃনিষ্কাশনে উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের সম্প্রসারণেরর মতো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিতে সন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশের রপ্তানি গন্তব্যের হিসাবে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স।

শেখ হাসিনা বলেন, “২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে ফ্রান্সের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এককোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। কাজেই নিশ্চিতভাবেই ফান্সের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আরও ক্ষেত্র রয়েছে।

সহজ শর্তে অর্থায়নসহ আরও বিনিয়োগ নিয়ে আসার ফরাসি কোম্পানিগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

“আপনাদের উদ্দেশ্যে আমার সহজ বার্তা হলো- প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ফ্রান্সকে বিনিয়োগ করতে হবে যেখানে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বাংলাদেশেরও বিনিয়োগ লাগবে। আপনাদের দরকার প্রতিযোগিতাসক্ষম দামে পণ্য কেনা, আমাদের দরকার রপ্তানির বাজার বাড়ানো। দুই দেশের জন্য লাভবান হওয়ার ভারসাম্যপূর্ণ সুযোগ এটা।”

ফরাসি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এমইডিইএফের প্রতিনিধি দলের শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। ওই সফর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আরও অবদান রাখবে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার প্যারিসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার সকালে ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দুপুরে তার দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং বিকালে ‘ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে’ যোগ দেন।

বুধবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভার পর রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

About Rafi Abdullah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*