খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে; কিছু হলে সরকারকে দায় নিতে হবে: মওদুদ

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো অবনতি হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে। তাঁকে কারাগারে যেভাবে রাখা হয়েছে, তাতে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন মওদুদ।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে; কিছু হলে সরকারকে দায় নিতে হবে: মওদুদ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ শনিবার কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা  উপলক্ষে হাসপাতালের সামনে বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতা মওদুদ আহমদ শতাধিক নেতা-কর্মীকে নিয়ে  উপস্থিত থেকে  সাংবাদিকদের নিকট এমন  মন্তব্য করেন।

এসময় মওদুদ  আহমেদ অনতিবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন।  তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ভার সরকারের নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁকে মুক্তি দিলে তিনি নিজেই নিজের চিকিৎসা করাতে পারবেন। তিনি যে সত্যিকারের অসুস্থ, আজকের এ অবস্থায় তা প্রমাণিত হয়েছে।

ওদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক আবদুল্লাহ আল হারুন  আজ দুপুরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন,  এই হাসপাতালে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার এক্স-রে করা হয়েছে।

আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন হেঁটে ৫১২ নম্বর কক্ষ থেকে এক্স-রে কক্ষে ঢুকেছেন। সেখান থেকে হেঁটে গাড়িতে উঠেছেন। আবদুল্লাহ আল হারুন আরও বলেন, ‘তাঁর (খালেদা জিয়া) জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু তিনি আমাকে বলেছেন, হেঁটে যেতে পারবেন।’

বিএসএমএমইউয়ের এই পরিচালক বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে তাঁর হাড়ের বিভিন্ন অংশের যেসব এক্স-রে করা হয়েছে, সেগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার পর। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল থেকে মেডিকেল প্রতিবেদন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। কারা কর্তৃপক্ষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গঠন করা মেডিকেল বোর্ডকে দেবে। বোর্ডই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন তাঁর পছন্দের চারজন চিকিৎসককে এক্স-রে কক্ষে রাখার অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী ওই চিকিৎসকদের সেখানে রাখা হয়। এঁরা হলেন ডা. ওয়াহিদুর রহমান, ডা. মামুন, ডা. এফ এম সিদ্দিকী এবং কারাগারে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

এ  প্রসঙ্গে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির নেতা নজরুল ইসলাম খান রেডিও তেহরানকে  জানান, বেগম জিয়া দীর্ঘদিন ধরে  যাদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন  তাদের সাথে পরামর্শ করতে চেয়েছেন । এর পর  বেগম জিয়া যেখানে চাইবেন, দেশে  বা দেশের বাইরে, সেভাবে ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে আজ শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে  তাকে বেলা দেড়টার দিকে  কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া এবং হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় ওই সব সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচুর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এরই মধ্যে হাসপাতাল ও কারাগার এলাকায় বিএনপির কিছু কিছু নেতা-কর্মীকে ভিড় করতে দেখা গেছে। তবে পুলিশ হাসপাতালের সামনে জড়ো হওয়া বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শাহবাগ থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাঁকে সেখানে রাখা হয়।

গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ মেডিকেল বোর্ড কারাগারে গিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। বোর্ডের সদস্যরা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক মো. শামছুজ্জামান (অর্থোপেডিকস), অধ্যাপক মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), অধ্যাপক টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।

গতকাল শুক্রবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডামের স্বাস্থ্য খুব ভালো নয়। প্রথম থেকেই আমরা তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে খুব উদ্বিগ্ন। তাঁর সমস্যাগুলো বেশ বেড়ে গেছে।’

তবে মির্জা ফখরুল বলেছেন ‘শারিরিক অসুস্থতা সত্বেও খালেদা জিয়ার মনোবল অত্যন্ত  শক্ত। তিনি আমাদের চেয়েও শক্ত মনের মানুষ।

About Kuy@s@News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*