ঢাকাকে উড়িয়ে সিলেটের যাত্রা শুরু

টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন তারা। মাঠের বাইরে সবচেয়ে দাপুটে দল। ক্রিকেটীয় শক্তিও এবার অনেক বেড়েছে কাগজে-কলমে। দলে তারার মেলা। কাকে রেখে কাকে খেলানো হবে, সেই মধুর সমস্যা। অথচ সেই ঢাকা ডায়নামাইটসের শুরুটাই হলো তিক্ত। ফেভারিটদের উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করল নতুন দল সিলেট সিক্সার্স।

 

বিপিএলের পঞ্চম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে শনিবার ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে সিলেট সিক্সার্স। বিপিএল ভেন্যু হিসেবে সিলেটের যাত্রা শুরু হলো গ্যালারি ভরা দর্শকের সামনে ঘরের দলের দারুণ জয় দিয়ে।

সিলেটের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বিস্ফোরক সব ব্যাটসম্যানে ঠাসা ঢাকা ২০ ওভারে করতে পারে মাত্র ১৩৬ রান। সেই লক্ষ্যকে পাত্তাই দেননি আন্দ্রে ফ্লেচার ও উপুল থারাঙ্গা। দুই ওপেনারের অসাধারণ জুটিই নিশ্চিত করে দেয় সিলেটের জয়।

১৩৬ রানের পুঁজি এমনিতেই যথেষ্ট ছিল না। ফ্লেচার ও থারাঙ্গা মিলে সেটিকে বানিয়ে ফেলেন ছোটো।

পাওয়ার প্লেতেই দুজন তুলে ফেলেন ৫১ রান। জুটি এগিয়ে যায় এরপরও। দারুণ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ঢাকার বোলিংও ছিল ধারহীন। ২১ রানে থারাঙ্গাকে রান আউট করার সুযোগ ছাড়া আর কোনো সুযোগই আদায় করতে পারেনি ঢাকা।
এক জুটিতেই যখন জয়ের কাছে সিলেট, ঢাকা পায় উইকেটের দেখা। ভাঙে ১২৫ রানের জুটি। আদিল রশিদকে ছক্কা মারার চেষ্টায় সীমানায় ক্যাচ হয়ে ফেরেন ফ্লেচার। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় এই ক্যারিবিয়ান করেছেন ৫১ বলে ৬৩।

তবে থারাঙ্গা ফিরেছেন দলের জয় সঙ্গে নিয়েই। লঙ্কান ওপেনার অপরাজিত ছিলেন ৪৮ বলে ৬৯ রান করে।

সিলেটের জয় শুরু টস থেকেই। বোলিং নিয়ে প্রথম ওভারেই অধিনায়ক নাসির হোসেন ফিরিয়ে দেন মেহেদী মারুফকে।

এভিন লুইসের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়েন কুমার সাঙ্গাকারা। তবে রানের চাকা খুব গতিময় ছিল না। দুজনই আউট হয়েছেন সেই গতির খোঁজেই।

নাসিরকে স্লগ সুইপে বিশাল একটি ছক্কা মারার পরের বলে আরেকটি ছক্কায় চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়েন লুইস (২৪ বলে ২৬)। কয়েকটি ডট বলে চাপে পড়ে যাওয়া সাঙ্গাকারা প্লাঙ্কেটকে তুলে মারতে গিয়ে ফিরলেন মিড অফে ক্যাচ দিয়ে (২৮ বলে ৩২)।
ঢাকার ব্যাটিং লাইন আপে এরপরও কাইরন পোলার্ডের মত নাম ছিল। সাকিব ছিলেন টিকে। কিন্তু আবুল হাসান রাজু ও লিয়াম প্লাঙ্কেটের দারুণ বোলিংয়ে ডানা মেলতে পারেননি কেউ। চোখের সমস্যা কাটিয়ে গত জুনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেন ফিরেছেন রান আউটে।

শেষ দিকে ক্যামেরন ডেলপোর্ট ১৩ বলে ২০ রান করে ঢাকার রান নিয়ে যান ১৩৬ পর্যন্ত।

চার ও পাঁচ নম্বর বোলার হিসেবে বল হাতে নিয়ে অসাধারণ বোলিং করেছেন আবুল হাসান ও প্লাঙ্কেট। দুজনের গতি বৈচিত্রে খাবি খেয়েছে ঢাকার ব্যাটসম্যানরা। ৪ ওভারে ২৪ রানে দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন আবুল হাসান, ২০ রানে দুটি প্লাঙ্কেট। তবে সেরা বোলার নি:সন্দেহে ছিলেন নাসির। নতুন বলে শুরু করে মাত্র ২১ রান দিয়ে ফেরান ঢাকার দুই ওপেনারকে।
বোলারদের গড়ে দেওয়া সেই ভিতেই বিজয় নিশান উড়িয়েছেন ফ্লেচার ও থারাঙ্গা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ঢাকা ডায়নামাইটস: ২০ ওভারে ১৩৬/৭ (মারুফ ০, লুইস ২৬, সাঙ্গাকারা ৩২, মোসাদ্দেক ৬, সাকিব ২৩, পোলার্ড ১১, দেলপোর্ত ২০*, রশিদ ৩, আবু হায়দার ৭*; নাসির ২/২১, শুভাগত ০/২৭, সান্টোকি ০/৩৬, আবুল হাসান ২/২৪, প্লাঙ্কেট ২/২০, তাইজুল ০/৫)।

সিলেট সিক্সার্স: ১৬.৫ ওভারে ১৩৭/১ (ফ্লেচার ৬৩, থারাঙ্গা ৬৯*, সাব্বির ২*; সাকিব ০/২৩, শহিদ ০/১৪, সাকলাইন ০/২৩, আবু হায়দার ০/২৭, রশিদ ১/৩১, ডেলপোর্ট ০/৭, পোলার্ড ০/১২)।

ফল: সিলেট সিক্সার্স ৯ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: উপুল থারাঙ্গা

About Kuy@s@News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*