ঢাবিতে অবাধ্য ছাত্রলীগ কর্মীকে ‘চড়-থাপ্পড়ের’ পর বহিষ্কার

নেতাদের নির্দেশ না মেনে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাসের’ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত থাকায় এক কর্মীকে নেতারা চড়-থাপ্পড় দেওয়ার পর সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ।

 

সাগর রহমান নামে দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এই ছাত্রকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের এই কর্মীকে এখন হল ছাড়তে বলেছেন সংগঠনটির নেতারা।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ এবং ভারি যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধসহ কয়েকটি দাবি নিয়ে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’ ব্যানারে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিস ঘেরাও করেন। সে সময় ছাত্রলীগ নেতাদের বিরাগভাজন হন সাগর।

ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘেরাওয়ের এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলার মধ্যে শিক্ষার্থীদের চুপ করতে বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ, আব্দুল্লাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান উজ্জ্বল। এ সময় নেতাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে ছাত্রলীগকর্মী সাগর তাদের যৌক্তিক দাবি না মানা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে সরবেন না বলে ঘোষণা দেন।

এরপর প্রক্টর ওই জায়গা থেকে চলে যাওয়ার পর সাগরকে মধুর ক্যান্টিনে যেতে বলেন ছাত্রলীগ নেতারা।
মধুর ক্যান্টিনে যাওয়ার পথেই ছাত্রলীগের ওই তিন নেতা তাকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন সাগর।

“এরপর মধুর ক্যান্টিনে যাওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স আমাকে শিবির কর্মী আখ্যা দিয়ে আবার চড়-থাপ্পড় দেন এবং স্ট্যাম্প দিয়ে মারতে উদ্যত হন,” বলেন তিনি।

সাগর এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা তা মেনে নিয়েছি।”

সাগর হলে অবস্থান করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে ওকে হলে ছেড়ে দিতে বলেছি।”

এ বিষয়ে আর কিছু জানতে হলে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যেহেতু এটা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত তাই তাদের সাথে যোগাযোগ করুন।”

সাগরকে মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগকে একাধিকবার ফোন করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

About Kuy@s@News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*