পোশাক খাতকে ‘রাস্তা দেখিয়েছে’ সিবাই

পোশাক খাতের শ্রম পরিস্থিতি ও পণ্যের মান উন্নয়নে গঠিত ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ’-সিবাই কারখানা মালিকদের নতুন পথ দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস রেড্ডি।
নতুন নতুন কারখানা এই প্রক্রিয়ায় এগিয়ে এলে সামগ্রিকভাবে পোশাক খাত লাভবান হবে বলে মনে করছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে ‘স্টেকহোল্ডার’স শেয়ারিং মিটিং’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে রেড্ডি বলেন, সিবাইয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি অনেক কারখানা নিজস্ব উদ্যোগে এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেইনিং প্রকল্প চালু করেছে। এই উদ্যোগ একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ও শ্রমিকদের উপকারে আসছে। শ্রমিকরা যেমন উচ্চ বেতন পাচ্ছেন, মালিকরাও পাচ্ছেন মানসম্মত কাজ।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সুইডেন, আইএলও, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম, বিজিএমইএসহ আরও পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে সিবাই। শ্রমিক প্রশিক্ষণ ও পোশাক খাত নিয়ে গবেষণা এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কর্মসূচি।

চলতি বছরের ডিসেম্বরে বিদেশি সহযোগীদের অংশগ্রহণের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে বক্তব্যে মেয়াদের পরও সিবাইয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন রেড্ডি।

তিনি বলেন, “আইএলও সিবাইয়ের শুরু থেকে এর সঙ্গে যুক্ত ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে কোনো একক প্রতিষ্ঠান নয়, ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে এর পুরো দায়িত্ব নিতে হবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে পুরো সেক্টরের পক্ষ থেকে ধারণ করতে হবে। তাহলেই এই প্রতিষ্ঠান টেকসই রূপ পাবে।

“সিবাই রাস্তা দেখিয়েছে। শ্রমিক প্রশিক্ষণের জন্য আরও কারখানাকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ ইতোমধ্যেই দেখা গেছে এই ধরনের কাজে শ্রমিক ও কোম্পানি উভয় লাভবান হয়।”

শ্রমিক প্রশিক্ষণ নিয়ে তৎপর হলেও পোশাকখাতের উৎকর্ষতায় গবেষণার কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এখনও শুরু হয়নি।

এবিষয়ে সিবাই সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, পোশাক খাতে দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জ ছাড়াও অনেক লুপ্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, বেতন কাঠামো অনেক সমৃদ্ধ হলেও বিভিন্ন সময় শ্রমিক অসন্তোষ ও অন্যান্য কারণে দেশে পোশাক খাতের ভাবমূর্তি এখনও বাড়েনি। তাই মেধাবী ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এদিকে আসার আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত চারলোটা স্কালাইটার বলেন, দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে সিবাই তাদের প্রশিক্ষণের ধারা অব্যাহত রাখবে। সিবাইয়ের মাধ্যমে আরও বেশি কর্মী প্রশিক্ষিত হয়ে উঠবে।

সিবাইয়ের সিইও সাবেক সেনা কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিবাইয়ের পথচলা, সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানে সিবাই থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া মেশিন অপারেটর আরিফা আক্তার ও প্রতিবন্ধী শ্রমিক শিরিন আক্তার তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

বী-কন অ্যাপারেলে কর্মরত আরিফা বলেন, তিনি অনেক কারখানায় কাজের জন্য ঘুরলেও অভিজ্ঞতার অভাবে কাজ পাননি। বী-কনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার পর তার চাকরি ও উচ্চ বেতন দুটো মিলে যায়। শুরুতে তিনি ৫ হাজার ৩০০ টাকা বেতনে চাকির করলেও প্রশিক্ষণ শেষ তার বেতন হয় ৯ হাজার ৫০০ টাকা।

 

About Rafi Abdullah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*