মুসলিমদের চাঁদার টাকায় দুর্গামন্দির

দরজা খুললেন মন্ত্রী। তার পিছনে থাকা জনতা অতুলপ্রসাদ সেন বললেন, ‘‌দেখ মা, এবার দুয়ার খুলে। গলে গলে এনু মা, তোর, হিন্দু-মুসলমান দু’‌ছেলে।’‌ মহাষষ্ঠীর দুপুরে সম্প্রীতির অনন্য নজিরের ছবি মিলল ভারতের মন্তেশ্বরের রাইগ্রামে।

রাইগ্রামের দুই–‌তৃতীয়াংশ বাসিন্দা মুসলিম। কিছুদিন আগে এখানকার শিবতলায় একটি দুর্গামণ্ডপ তৈরি হয়েছে। খরচ হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। আক্ষরিক অর্থেই সার্বজনীন এই মণ্ডপ গড়তে যারা চাঁদা দিয়েছেন, সেই তালিকায় উজ্জ্বল মহিউদ্দিন শেখ ৫ হাজার টাকা, আজফর আলি শাহ ৩ হাজার টাকা ছাড়াও ৫০০ থেকে হাজার টাকা সাহায্যকারীর তালিকায় বহু মুসলিম বাসিন্দা।

মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ যখন মণ্ডপের ফিতা কাটলেন, পিছনে তখন ‘গলে গলে হিন্দু–‌মুসলমান দু’ ছেলে’র দঙ্গলের সৌহার্দ্যের উচ্ছ্বাসে রাইগ্রামের আকাশে আনন্দগান। মন্দির তৈরিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন গ্রামেরই বাসিন্দা পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সহ–‌সভাপতি বাবর আলি মণ্ডল।

তিনি বলেন, ‘‌২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে এসে মন্তেশ্বর বিধানসভার আমাদের প্রার্থী সজল পাঁজা এই গ্রামে একটি দুর্গামণ্ডপ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি অকালে চলে যাওয়ায় তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমরা গ্রামের দুই সম্প্রদায় একযোগে পালন করলাম।’‌

সম্প্রীতির এই স্মারক উদ্বোধন করার পর মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, ‌সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষার নজির রাইগ্রামের এই মন্দির।

সৌহার্দ্য–সম্প্রীতি শুধু মন্দির নির্মাণ বা দুর্গাপুজাতেই নয়। এখান থেকে কয়েক কদম দূরেই কিছুদিন আগে তৈরি হয়েছে মসজিদ। যা নির্মাণে অর্থসাহায্য করেছেন ষষ্ঠীচরণ গুপ্ত ২ হাজার টাকা, নয়নতারা কুণ্ডু ১ হাজার টাকা, সব্যসাচী চক্রবর্তী ১ হাজার টাকাসহ গ্রামের বহু হিন্দু বাসিন্দা।

শুধু চাঁদাই নয়, রাইগ্রামে মহরমে এবার বিশাল তাজিয়া বের হবে। সেই শোভাযাত্রাতেও একসঙ্গে দেখা মিলবে হিন্দু-মুসলিমের।

About Kuy@s@News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*