লিবিয়া থেকে ইতালি আসার অনুভূতি,ঘটেগেলো জীবনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা

লিবিয়া থেকে ইতালি আসার অনুভূতি। ঘটেগেলো জীবনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। নির্বাক আনমে যখন আমি তাকি। চুখ বুঝলেই সেই করুন স্মৃতি গুলি নিরবে আমি উপলব্ধি করি। আসলে কি ঘটে গেলো আমার জীবনে?? আমি যেনো মরণ যুদ্ধে হার না মানা এক সিপাহী ।

খুব কাছ থেকে কিয়ামতের করুন ঝলক গুলা দেখে এসেছি! আমার জীবনের স্বপ্ন পূরনের যাত্রায় ঘটেগেলো এক বিরল কাহিনী। হে আজ আমি কিছু বলতে চাই। যা, এতোদিন কলমের শক্তিযুগানোর অভাবে লিখা হয়নি । কথাগুলা আরো আগে লেখা উচিৎ ছিল।শারীরিক ও মানুষিক ভাবে অনেকটা দূর্বল তাকায় আর বলা হলোনা। সাম্প্রতিক বর্তামানে জীবনের এক মরণ ফাঁদের নাম লিবিয়া। চমকাবেন না। অবশ্যই এটা পৃথিবীর ভ্যূ- পৃষ্টে অবস্থিত। এখানেও মানুষ বসবাস করে।

কিন্তু কিছুটা হলেও পার্থক্য আছে। ওরা সত্যিকারের মানুষ বটে, কিন্তু ওদের বিতরে পশুত্ত্ব বিরাজমান। এদের বিতর ও বাহির জগত হিংশ্রবাঘের চেয়ে আরো ভয়ংকর। যাই হোক এবার আসি মূল পর্বে । যা বর্ননার মাধ্যমে অদেরকে পশুত্বের সাথে তুলনা করার দৃষ্টান্ত প্রমাণ কিছুটা হলেও পাবেন।আমাদের পরিবারটা ইতিমধ্যে অনেকটা অভাব অনুটনের মধ্যে সময় অতিক্রম করছে। আমার আব্বা ১৯৮৪ সালে লন্ডন ছিলেন কিন্তু আমার দাদা লন্ডন গিগেল না থাকায় আমার আব্বা লন্ডন থাকতে পারেননি চলে আসলেন দেশে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ পযন্ত সাবেক মেম্বার ছিলেন, পাশা পাশি ব্যাবসা করিতেন
ব্যাবসা জীবন তান প্রায় ৩০ বছর এর কৌঠায় চলছে। এর মাজে আমি ও বিয়া করিয়াছি আমার পুএ সন্তান দুটি রয়েছে আমার আব্বা আর কতক্ষণ আমাদের জন্য ত্যাগ শিকার করবেন? মা-বাবার ৪ সন্তানের মধ্যে সবার বড় আমি। প্রচলিত নিয়মরীতিগত ভাবে পারিবারের বড় সন্তানগুলা যত বেশি পরিশ্রমী হবে সে পরিবারে তথ অল্প সময়ে সুখি পরিবারের মর্যাদার আসনে বসবে ।

অবশ্যই সেই চিন্তাচেতনার বাহিরে আমিও ছিলাম না।আমারো বিবেকে বাদতে শুরু করল কবে বা কিভাবে আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবো। কখন পরিবারে মুখু হাসি ফুটাবো।লেখা পড়া করেছি এইচ, এস, সি পর্যন্ত। লেখাপড়ায় মনযোগ না তাকায় ব্যক্তিগত ভাবে তেমন একটা মজবুত অবস্থান দখল করতে পারিনি।তাই তো সমাজের মধ্য তাল মিলাতে নির্দিধায় কষ্ট হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

অন্যতায় আমাদের সিলেটিদের জন্মসুত্রে প্রবাসী পাড়ি জমানোর ভাগ্য লেখা হয়ে যায়। মনের পতিক্রিয়া থাকে যে আমাকে প্রবাসে পদার্পণ করতেই হবে। তা-ও আবার মধ্যপ্রাচ্য কোন দেশে গেলে ভবিষ্যৎ হবেনা। যেতে হবে ইউরোপ। তেমনি আশা জাগলো আমার মনে। কিভাবে পাড়ি জমাই ইউরোপে?

বর্তমান সময়ের যুদ্ধবিদ্ধস্থ দেশ হচ্ছে লিবিয়া, যেখান থেকে সহজে স্মরনার্থী পাড়ি জমাতে পারে স্বপ্নের দেশ ইতালি।মা হারা শিশুর মতো বুক ভরা আশা নিয়ে যাত্রাশুরু করলাম সেই পথে। শুরু হয়ে গেলে জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত কষ্টের মুহূর্তগুলি। দালালের লাঞ্চনা ও ভিড়মম্বনার মাধ্যমে ৪ দেশ ঘুরে ঘুরে পা রাখতে গেলাম লিবিয়ার বিমানবন্দরে। একটি দেশের বিমান বন্দর দেখতে এই রকম হবে তা আশা করিনাই।

এ যেন গরু ছাগলের গোয়াল খানা ও সন্ত্রাসীদের আড্ডা স্থল। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রদিচ্ছে মাফিয়া, যেখানে জান মালের কোন নিরাপত্তা নাই।একজন মানুষের জীবন চুর্ণবিচুর্ন করে দিতে তাদের একটি বুলেট ই যথেষ্ট। যাই হোক বিমান থেকে নামানু হলো।ঠিক সেই মুহূর্তে দেখি যে পিস্থল হাতে ৭/১০ জন যুবক টহল দিচ্ছে কাউন্টার। খপ্পড়ের মত কেড়ে নিচ্ছে পাসপোর্ট।

ইমিগ্রেশন অফিসাদের এক হাতে সিগারেট অন্য হাতে মদের বুতল।শীল না দিয়েই যুবক গুলা আমাদের নিয়ে গেলো বাহিরে। বাহির হওয়ার পরে একটি লোক লাঠিহাতে ও ফিস্তল হাতে বলে উঠল তাড়াতাড়ি! মনে, মনে দরে নিলাম লোকটি মনে হয় আমাদের বাংলাদেশী যেহেতু বাংলায় কথা বলছে। সময়ের ব্যবধানে ধারণা পালটে গেল যে, লোকটি লিবিয়ান বাংদেশিদের কাছ থেকে তামাশা করার জন্য দু একটি বাংলা কথা শিখেছে। আর সময় সুযোগে কথাগুলি ব্যবহার করে।

যাই হোক আমাদের বাহির করে তাড়া হুড়া করে নিয়ে রাখাহল একটী নির্জন আবর্ঝনা স্থুপের পাশে। কার গ্রুপে কে বা কারা? গনানা করা শুরু হলো। এবং গ্রুপ বিক্তিক গাড়িতে তুলা হল। একটি লাইটেস গাড়িতে ২৫ জনের মতো লোক উঠানো হল। শ্বাস নিঃশ্বাস নিতে অনেক কষ্টের ব্যাপার তার উপর ড্রাইভারের উতাল পাতাল সিগারেট টানের ধোয়া ও সর্বসাউন্ডের মিউজিক আমাদের মনে রীতিমত আতঙ্ক শুরু হয়ে গেলে।

এমতা অবস্থায় ড্রাইভার রাজধানীর ওলীগলি আকাঁবাকাঁ পথ এবং ধ্বংসস্থুপ স্থান গুলা অতিক্রম করে নিয়ে গেলো এক নির্জন বাসায়।এক এক করে গননা করে ঢুকানো হল সবাইকে। সবার সাথে ঢুকলাম আমিও।বিতরে ঢুকেই দেখি ৩/৪ জন বাংলাদেশি। হাতে তাদের বড় বড় লাঠি।সবাইকে চুপ করে বসে তাকতে বলা হল।সবাই নিজ নিজ আসনে বসে পড়ল। ঘরটি দেখতে অন্ধকার।আলোবাতাস ঢুকার কোন রাস্তা নাই।এর মধ্যে সবাই নির্জনতা অবলম্বন করা সত্যেও দায়ীত্ব্যরত বাংলারা অকাত্ব্যভাষায় গালাগালি শুরু করে যা মুখে উচ্চারন করাই কষ্টের।আমরা কাটাচ্ছি কষ্টের মুহূর্ত আর ওদের মনে হচ্চে ঈদ যাচ্ছে! সিগারেটের উপর সিগারেট! ইচ্ছা ওনিচ্ছাকৃত ভাবে মারদর।পশ্রাব করতে না দেওয়া! টিসু ব্যবহার করতে নিষেধ! কাশি দেওয়া নিষেধ! গাড় এদিক সেদিক করা নিষেধ! ইত্যাদি আচরন! একজন বাঙালি হয়ে আরে একজন বাঙালী ভাই কি এ রূপ আচরণ করতে পারে? ভাবতে শুরুকরলাম এ কোথায় আসলাম?

সত্যি কি মরণ ফাদেঁ পা দিয়েই দিলাম। জীবনের রিক্স নিতে আসলাম তো সাগরে। এ তো দেখি সাগরের চেয়ে আরো ভয়ঙ্কর। রিক্স নিতে আসলাম ১টি এখন দেখি রিক্স নিতে হবে হাজারটি।

এভাবে চিন্তা করে কতক্ষন বসে তাকার পর দ্বায়ীত্ব্যরত বাঙালীরা নাম বলে বলে গ্রুপ ভাগ করল। অমুক নামের সাথে তমুক আলী বলে বলে মজা করছে আর গ্রুপ ভাগ করছে। আমাদের দালাল অন্য একজন বিধায় আমাদের-কে রুমের অন্য একটি স্থানে নিয়ে আসা হলো।আমার সাথে ছিলেন পরিচিত সুহেল মুমিন আলিম জাকির জাবের ।বাংলাদেশ থেকে একসাথে আমাদের আসা লিবিয়াতে। এ পাশে এসে দেখি বাঙালীদের সরদার বসে আছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে কথাবলার চেষ্টাকরলাম তার সাথে। ঠিক সেই মিহূর্তে বাধাদিলেন সুহেল যে, অদেরসাথে কথাবলতে নেই, সমস্যা হবে, মারদর করবে। উনার কথা শুনলাম না আমি।কথাবলা শুরুকরলাম।

ভাই আপনার বাড়ি কি সিলেট? না কুমিল্লা। কিন্তু কথায় বুঝাযাচ্ছে সে সিলেটী! নিশ্চই পরিচয় গোপন করতে চাইছে। তার পর সে নিজ থেকেই আমাদের প্রশ্ন শুরু করতে লাগল।আমরাও অকেন সাহসের সাথে উত্তর দিয়েই যাচ্ছি।এবং লিবিয়ার সাগর পথে ইতালি যাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাইছি। উত্তরে : প্রথমেই আতঙ্কিত একটি হাসি তার পর বর্ননা- যখন আইসা পড়ছেন পিছনে ইচ্ছা হলেও তাকাতে পারবেন না। সোনার দেশ ছেড়ে আসছেন। দোযখে পা দিছেন। আর দোযখে পা দিলে কেমন হয় তা তো যানেন?? সাগরের চেয়ে ভয়ংকর লিবিয়ার মাফিয়া! এখান থেকে সাগর পারে যেতে কথবার বিক্রি হবেন তা একমাত্র আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

গরু ছাগল হাট বাজারে এমন কায়দায় ব্যাপার হয়না লিবিয়ায় আধম ব্যাপার যে ভাবে হয়। শুধু টাকার জন্য। লিবি-রা চায় শুধু টাকা আর টাকা। ওরা এখন টাকার জন্য পাগলা কুত্তা হয়ে ঘুরছে। আমি আবার প্রশ্নকরলাম ওরা এখন মানি? আগে কেমন ছিলো? উত্তর ঃ ওরা আগে বাঙালী কিভাবে বিক্রি করে টাকা আদায় করতে হয় তা জানতো না।

এসব তাদের শিখিয়েছে কিছু কিছু বাঙালী জানুয়ার। যেমন দালাল নবিগন্জের পাইক পাড়ার রুবেল তারা লিবিকে বলে যে বাঙালী এই রাস্তদিয়া তো খুব অল্পটাকা খরচা করে চলে যায় ইতালি। বিনিময় তুমাদের তেমন একটা লাভ হয়না।এখন থেকে যা বাঙালী পাও ধরে আমাদের কাছে বিক্রি করবে।আর আমরা তুমাদের ৪ হাজার পাঁচ হাজার দিনার দিবো। পরবর্তীতে তারা লোকগুলি অন্ধকার ঘরে বেধেরেখে মারধর করে বাংলার ২/৩ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায় করে। তাতেও শেষ নয় আবারও ধরিয়ে দিবে লিবির হাতে। লিবি আবার বিক্রি করবে অন্য বাঙালীর হাতে। এভাবেই চলবে ভাগ্যযতক্ষন। পরিবার খুজে পাবেনা শান্তির আবাস।

তার উল্লেখিত কথা শুনে ঘাবড়ে গেলাম। রীতিমত হার্ট দরপরকরা শুরু করছে।যে আমি কোথায় এলাম? শান্তনা যুগালেন মুমিন ভাই। আমাদের কিচ্ছু হবেনা আল্লাহ আমাদের সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাবেন।ইনশাআল্লাহ। রাত প্রায় ১২টা পরিবারে সাথে কোন যোগাযোগ নাই।পরিবারে সবাই অশান্তির মধ্যে আছে।তার বলছে সকালে যোগাযোগের ব্যবস্থাকরে দিবে।

এবং আমরা যায়গা মতো এসেছি সে কথা বলে দেশে টাকা লেনদেন করারা জন্য। তার পর একটি লোক বলল ভাত খাবে। লিবির কাছে অনুমতি চাইলো ।যে ওদের কে কি ভাত খাওয়ানো যাবে? লিবি বলল হুম দাও। মনে মনে অনেক খুশি ৬/৭ দিন থেকে ভাত খাইনি। আমাদের ভাত খাওয়াবে পেট ভরে ভাত খাবো।

সামনে প্লেটে অল্পকরে গন্ধযুক্ত ডালভাত দেওয়া হল প্রথমে ক্ষিদায় কিছুই বুঝিনি নিজের মতো করে ক্ষুধার্ত পেট বরতে লাগলাম অর্ধপেট বরার পর টের পেলাম যে ডালভাতে গন্ধ যাই হোক কিচ্ছু করার নেই। খেতে হবে নতুবা বেত্রাঘাত!

রাত্রে ঘনিয়ে আসছে ঘুমানোর জন্য একটি ছোট চাঁদর দিল ৪ জন কে মাটিতেই ঘুমিয়ে পড়লাম। সকাল হলো বাড়িতে ফোন করারা জন্য নাম্বার চাইলো। নাম্বার দিলাম। তাদের কথামত কথা শুরুকরলাম ২ কথার মধ্যে কথা শেষ করারা নির্দেশ – হ্যাল আমি লুৎফুর খালেদ আমি লিবিয়াতে আছি। ভালো আছি টাকা লেনদেন শেষকর।এ কথা বলতে না বলতেই কেড়েনিল ফোন। এভাবেই একটু পরে আসলো একটি গাড়ি। নিয়ে যাওয়া হবে রিসিভকারী দালালের বাসায়।গাড়িতে উঠলাম ড্রাইভার ৩/৪ গাড়ি চেইঞ্জ করে অনেক সাবধানতার সাথে নিয়ে গেলো দালালের বাসায়। দালাল নিয়ে রাখলো একটি নির্জন ঘরে। নেমে আসলো বিকাল। ঠিক সেই মুহূর্তে কিছু লিবি এসে ধাক্কানো শুরুকরল দরজায়! এরা নাকি মাফিয়া আমাদের তুলে নিয়ে যাবে।

আমরা রীতিমত ভয়পেয়ে গেলাম যে আমরা মনে হয় বিরাট একটা বিপদে পড়তে যাচ্ছি, সাথে পরিবারকেও।যাই হোক রক্ষাপেলাম তাদের হাত থেকে দরজা বাঙতে না পারায় আপনা আপনি ওরা চলে গেলো।সকালে টাকা পরিশোধের পড় চলে গেলাম আরেক মাফিয়া রুবেলের কাছে রিসিভকারী দালাল বলল কাল তুমাদের গেইম আছে তোমরা আমার বৌর একাউন্টে জন প্রতি ১০০০০০ একলাক করে নিল ( ইতালিতে যাওয়ার নৌকা ছাড়বে) যোদি সকাল ১০ টার ভিতরে টাকা রেডি করতে পারো তাহলেই তুমাদের সাগর পারে পাঠিয়ে দেবো। আমরাও চাইলাম এখানে তাকা রিক্স হবে টাকা লেনদেন করে সাগর পারে চলে যাই।

নিয়ে আসা হল গাড়ি শুরু হয়ে গেলো মর্মান্তিক কষ্টের অধ্যায়। ৩/৪ টি গাড়ি বদলি করার পরে ড্রাইভার আমাদের নির্জন একটি রাস্তায় রেখে চলে আসলো।আমরা ভয় পেয়ে যাই, একজন আরেক জনকে বলতে লাগলাম আমাদের কি কোন বিপদে ফেলেদিলো? মুমিন শিপন ভাই কারো মুখের দীকে তাকানু যাচ্ছেনা।

খুলাখুলি রাস্থায় না বসে একটি ফাঁকা দোকান ঘরে ঢুকে চুপচাপ বসে তাকলাম। আসলে কি হবে আমাদের? আমরা এখন কোথায় যাবো?কোন যোগাযোগ ব্যবস্থাই তো আমাদের কাছে নেই। যেকোন লিবি আমাদের দেখলেই তো বিক্রি করে দিবে। এই ভাবতে না ভাবতে আরো ৪ জন বাঙালী চলে আসলেন চুখমুখে তাদের পেরেশানির চাপ। বুঝতে পারলাম তারাও আমাদের মতো।

তাদের দেখে আমাদের মনে সাহস যোগালো।এবার যাই হোক ৮ জন তো একসাথে আছি। উনারা আবার অনেক দিন থেকে লিবিয়াতে তাকেন লিবিয়ার ভাষা জানেন। কিছুক্ষন বসে তাকার পর চলে আসলো একজন লিবি এবং আমাদেরকে তার পিছন পিছন যাওয়ার জন্য বলল। জংগল ঝাপজাড়ের মধ্যে হাটিয়ে নিয়ে গেলো একটি গুপন রাস্তায়। সেখানে দেখলাম একটি কাঁচামাল বহনকারী গাড়ি।

আমাদের সবাইকে সেই গাড়িতে উঠে শুয়ার জন্য বলা হল। আমরাও তাই করলাম। পরে উপরে একটি চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হল। একজনের মাতায় আরেক জনের পা এভাবেই প্রায় ১ ঘন্টা গাড়ী চলার পর অন্য একটি লাইটেস গাড়ির ভ্যানে তুলা হল ৮ জনকে। এটা কি সম্ভব?? অসম্ভব কে সম্ভব করল লিবি। ভ্যেনে তুলে দিলো সবাইকে এবং গাড়ীর কালো গ্লাস তুলে দিলো । অক্সিজেনর অভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে ।

এভাবেই প্রায় ২ ঘণ্টার পথ অতিক্রম করে আসলাম সাগর পারের একটি ক্যাম্পে। সেখানে এসে দেখি আজকে কোন গেইম নেই।প্রতিদিন আশ্বাস দিয়ে দমিয়ে রাখাহয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক লোক।দেখতে দেখতে ক্যাম্প নামক জেলখানায় কেটেগেলো দেড়মাস তার মধ্যে দুইবার সেই আগের কায়দায় মাফিয়ার হানা এই ক্যাম্পে। বাচলাম তাদের হাত থেকে। অন্যতায় রাত্রে ঘুমের অসুবিধা। এক রুমে লোক প্রায় ৭০ জন। একজনের মুখে আরেক জনের পা।

খাবার দাবারের অসুবিধা। কাপড়ে উলসের আক্রমণ সহ নানান আজবী ঘটনা। লিবিয়ার দেড় মাসের বন্ধিজীবন কত কষ্টের তা মুখে বলে বুঝানো অসম্ভব। প্রতিদিন বমা বন্ধুকের গুলির আওয়াজে গুম বাঙে। আতঙ্কিত প্রতিটি মুহূর্ত।

একদিন সবাইকে প্রস্তুত করা হল গেইম দেওয়ার জন্য। সবাই যার যার মত প্রস্তুত ডলার, মোবাইল লুকিয়ে রাখছেন শরীরের ভীবিন্ন স্থানে কোষ্টিপ দিয়ে।হঠাৎ লিবি বন্ধুক নিয়ে এসে বলে তুমাদের কার কার কাছে কি আছে দিয়ে দাও। প্রানের ভয়ে সবাই মোবাই ডলার দিয়ে দিলেন।কিন্তু তার পরে আর সেই দিন গেইম হল না।

দালাল যে সবার সাথে ধান্দার গেইম খেলছে তা কেহ বুঝেনি। তার ১০/১২ দিন পরে সবাই ভাত খেতে বসল ঠিক সেই মুহূর্তে একজন লিবি ঔষধের কাবার গাড়ি নিয়ে আসে। এবং বজ্রকন্ঠে সবাইকে সেই গাড়িতে উঠতে বল। সবাই খানা ফেলে তাড়াহুড়াকরে যার যার মত প্রস্থুত হয়ে গাড়িতে উঠতে লাগল। গাড়িটির কথা কি বলব আর? ছুট্ট একটি কাবার গাড়িতে লোক তুলে নিলো ৪০ জনের উপর। দরজা করে দিল বন্ধ।

বিতরে নরকের আবাস। উঠলাম আমরা ৪০থেকে ৪৫ জন লোক। পর্যাক্রমে চাপাপড়েগেলাম আমি ৩জন ব্যক্তির নিচে অন্যদিকে শ্বাসপ্রশ্বাসের অভাব। ছুট একটি গাড়ির বিতরে এত লোক কিভাবে সম্ভব? সবাই যেনো গাড়ির ভিতর চিৎকার করে কাদিতে চাহিয়া ও কাদিতে পারছেন না।যার যার অবস্থান থেকে লড়ছেন মৃত্যুর সাথে। তিনটি মানুষের ওজনের চাপ নিয়ে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছি আমিও।গন্তব্যের উদ্দ্যেশে হাজার কষ্ট চাপাদিয়েও ধর্য্যের সাথে বসে আছি। শ্বাস নেওয়া যাচ্ছেনা অক্সিজেন নেই।

দম চলে যাবে ২ /১ মিনিট হলে। এই যায় যায় অবস্থায় ২০ মিনিট গাড়ি চলে নিয়ে যাওয়া হল সাগর ঘাটে। ঘাট থেকে নৌকা প্রায় ওনেক দূর।ছোট একটি পিসবোট করে ২০ জন ২০ জন করে সেই কাঠের নৌকায় তুলা হল প্রায় ৪৫০ জন যাত্রী। মরক্ক, তিউনিসিয়া, সুদান, সুমালী বাংলাদেশী সহ ভীবিন্ন দেশের পুরুষ মহিলা যাত্রী। মহিলাদের মাজে ছিলেন ওনেক গর্ভবতী মহিলা এবং মা ও শিশু। যাই হোক উঠলাম নৌকায়। নৌকার বিবরণ কিভাবে যে দেই! এক জীবন্ত দোযখ খানা। ২৫/৩০ হাত নৌকায় ৫০০ লোক! এটা কি সম্ভব? এক জনের উপর আরেক জন তুলা হচ্চে। নিচের অবস্তা তো আর নাই বললাম।বাক্সের মত অন্ধকার নিচে, মাত্র দুটি ছুট রাস্তা আর এই রাস্তার দীকেই শ্বাস কার্য সঞ্চালন করছেন ২৫০ জন লোক।এটা যে কথ কষ্টের! তার পর মিশিনের শব্দ ও দূয়া এবং সবার বমী পস্রাব রীতিমত কেয়ামতের ইঙ্গিত বহন করে।যাই হোক বুক ভরা আশা নিয়ে সব কষ্টকে তুচ্ছ করে আমিও সবার সাথে ছূটিলাম গন্তব্যের উদ্দেশ্য। সবার মুখে আল্লাহু আল্লাহু ও রাসুল (সঃ) দূরুদ।আমি তাদের সনে বড় আশা লয়ে মনে ডাকিলাম মাওলার দরবারে। আমার রাসুল পাকের দূরুদ কলবের সাথে দিলাম গেঁতে।প্রতিনিয়তেই পরিবারের কথা স্মরণ হচ্চে।আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ হে আল্লাহ আমি তো জেনে শুনে মরণের দীকে পা বাড়িয়ে দিলাম।

তুমার এই গুনাহ গার বান্দাকে তুমি রহম কর। এই বলে প্রায় ২ ঘন্টার মত নৌকা চলতেই একটি গুলির শব্দ! নিচের সবাই আতঙ্কিত! উপরের সবাই স্পষ্ট বুঝতে পারছে কি ঘটতে যাচ্ছে। আর নিচের সবাই মনে করছে যে নৌকা বুঝি ফেটে গেছে! আল্লাহু আকবার! মরণ তো সবার সামনেই। হট্টগুল শুরুকরে দিছে সবাই। গভীর কোলহীন সাগরের মধ্যখানে এভাবেই যে, মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে, কেহ যেন মেনে নিতে পারছেন না। সবাই যার যার মত করে মরণের পেস্তুতি নিচ্ছেন।কালিমা পড়ছেন তাওবা করছেন।

আমি অধম নিস্তব্ধ হয়ে নৌকার এক পাশে বসে আছি। পড়ে গেল বাবা এবং আত্মিয় সজনের কথা মনে। ওরা কি সহিতে পারবে কিছু? বলতে লাগলাম হে আল্লাহ তুমি যে এভাবে মৃত্যু দিচ্ছ আমাকে, তুমি কি জাননা আমার মৃত্যুর সাথে এক কলঙ্কীত অধ্যায় রচনা করবে আমার পরিবার! সারটা জীবনের জন্য এই বিয়োগ ব্যাথ্যা সহীতে পারবেনা তারা। আমার বাবা ও পরিবার সমাজের কাছে কি জবাব দিবে ।আমার সাথে আর কত প্রান বুঝি যাবে। কি আর করার আছে সামনে যা তাই তো বরণ করে নিতে হবে।

সেই করুন মুহূর্তের কথা কি আর বলব। সবাই দীকবেধিক ছুটতে গিয়ে দুই দরজার মধ্যখানে ৪ /৫ জন লোক দরজায় আটকে গেলো।তারা আর বাহির হতে পারছেনা আবার বিতরে ঢুকতেও পারছেনা। দরজাটি সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ। ২ শতাধিক লোক নীচে । আল্লাহ’র কুদ্রত থেকে সবার মনে শান্তি আসল অবশেষে সবাই বুঝতে পারল যে আসলে আমাদের নৌকায় মাফিয়া সন্ত্রাসী আক্রমন করেছে। মাফিয়াবাহী বুট থেকে ২ মাফিয়া লাফ দিয়ে আমাদের নৌকাতে উঠল।

মরুক্ষকের এক ভাই-কে বুলেটের আঘাত সহ ইচ্ছা মতো বেদড়ক যাকে ইচ্ছা তাকে পিঠাতে শুরু করল! গর্ভবতি মহিলার পেটে লাথি মারাটাও বাধ যায়নি তাদের! টাকা পয়সা মোবাইল সহ সবকিছু কেড়ে নিলো সবার।এবার ইঞ্জিলের রেইসারে দরে এমন ভাবে ইঞ্জিল টানদিতে লাগল ২ /৩ মিনিটের মাতায় ইঞ্জিল পুরাটাই সিজ করে দিল।

ধারাবাহিক ভাবে আমার কাছে আসল এবং জিজ্ঞাস করল টেলিফোন, দিনার যা আছে দেওয়ার জন্য। আমি মাথানাড়া দিয়ে বললাম আমার কাছে কিছু নাই।আমার উপর কোন প্রকার টর্চার না করে চলে গেলো নৌকার ছাদে । এবার ৪৫০ জন যাত্রীবাহী নৌকাটি নিয়ে চলে যাচ্ছে ফের লিবিয়ার পথে। মনের ভীতর অস্থিরতা আরো দীগুন মাত্রায় বেড়ে গেলো।আর বুঝি আমাদের ভাগ্যে ইতালি নাই।

নিজের লাইফটা নির্ঘাত হুমকির মুখে।অবশেষে প্রায় ১ ঘন্টা পার করে আসলাম মাফিয়া নামধারী উসামার ঘাটে। সেখানে এসে দেখি পিস্তল হাতে উসামা সহ তার সহশ্র বাহীনি ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছে সিগারেট টানা সহ হাতের নাগালে যাকে ইচ্ছা লাথি ঘুষি মারতেছে এবং যাত্রীর মধ্যে থেকে বিভিন্ন দেশের লোক আলাদাভাবে সারিবদ্ধ করছে।সবাইকে নিয়ে তোলা হল একটি ট্রাকে। নিয়ে যাওয়া হল মুক্তিপন জেলে, সবার কাছথেকে টাকা উদ্ধার করা হবে বলে। একটি রুমে প্রায় ৭২ জন লোক ঢুকানো হল। সেই রুমের কথা কি আর বলবো দুযখ নলকুপের এক সাদৃশ্য প্রমাণ। একটি মাত্র ভেন্টিলেটর উঁচুনিচু ফ্লোর একটি টয়লেট তা আবার দরজা ছাড়া বিশুদ্ধ কোন পানি নাই।

টয়লেটের লাইনের পানি পান করতে হয়। দরজা বন্ধ সবাই এক ঘরে জিম্মি বাড়িতে কোন যোগাযোগের ব্যবস্থা নাই। একটু পরে সেখানে দায়ীত্ব্যরত একজন পাকিস্তানি ও সুদানী লোক আসলো পুনরায় আবার সবাইকে চেক করতে লাগল। এবারের চেকের বর্ননা আর কিভাবে দিবো?! সবাইকে এক কথায় উলঙ্গ করে চেক করতেছে যে, কারো কাছে কোন টাকা পয়সা মোবাইল রয়ে গেলো কিনা। বিকাল হয়ার পর দালালদের আগমন। বাঙালি লোক কিনে নিবে বলে দরজার সামনে এসে লোক পছন্দ করে, এদের মধ্যে কে সিলেটী এবং সুন্দর হেন্ডসাম! বাবার টাকা আছে কিনা!? সিলেটী হলে নাকি ধনী তাকে! এবং ইচ্ছা মত মুক্তিপণ আদায় করতে পারে। এই ভাবে যাকে ইচ্ছা তাহাকে বাচাই করে নিতেছে।যাই হোক দালালদের চুখে পড়েনি আমায়, সবার মধ্যে নিজেকে একটু লুকিয়ে রাখলাম। কেটে গেল প্রায় তিনদিন। না খেয়ে আছি! প্রতিদিন অর্ধেক শুকনা বনরুটি আর লবণাক্ত লাইনের পানি ।

কি আর করার কোন উপায় নেই হাতে। চাইলেও বাংলাদেশ ফেরার কোন উপায় নাই! যোদিও ফিরার চেষ্টা করি তাহলে আরো কথবার যে, মাফিয়ার হাতে বক্রি হতে হবে । তার কোন মাফকাঠি নেই। সেই জন্য পিছনে ফিরে তাকানোর কোন সুযোগ নাই ।

তাই সবাই ঠিক করলাম এই মাফিয়া গ্রুপের নেতা উসামার সাথে সরাসরি চুক্তি করে আবার গেইমে উঠবো। ভাগ্যক্রমে আমাদের মধ্যে দুইজন ছিলেন তারা লিবিয়ান কথা জানেন । তাদের মাধ্যমে উসামাকে বলা হল আমরা ইতালিতে যেতে চাই । তুমি আমাদের যাবার ব্যবস্তা কর নয়তো গুলি করে হত্যা কর। সে বলল ঠিক আছে জন প্রতি ২ লাখ টাকা করে জমা কর। সবাই বাধ্যাতামূলক রাজি হলাম।

বললাম সবার বাড়িতে যোগাযোগ করার ব্যবস্তা কর। এবার আমাদে নিয়ে যাওয়া হল ইতালি সফর জেলে। যেখান থেকে সে মুক্তিপন আদায় করে মানুষদের ইতালি পাঠায়। যাই হোক এখানে এসে দেখি ফোন এবং প্রতিদিন এক গ্লাস শুদ্ধ পানি পান করার ব্যবস্থা আছে, আবার প্রতিদিন রাতে দেওয়া হয় গন্ধযুক্ত ডাল ভাত। এখানে আসার পর রাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেওয়া হল প্রায় এক মিনিটের মতো কল করলাম আমার ভাইর কাছে……. হ্যালো খালেদ আমি লুৎফুর আমি ভালো আছি কালকের মধ্যে টাকা ২ লাখ এস, এ পরিবহনে এই ঠিকানায় দিয়ে দিও। তার পর এই পাস তেকে আমার ভাই বললো যে তোমাদের দালাল রুবেল পাইক পাড়া নবিগন্জ আমাদের কাছ থেকে আবার ও ৪০ হাজার করে নিয়েছে তোমাদের ছাড়িয়ে আনবে বলে, আমি বললাম এই মিত্যুক বেইমান আমাদের কিছুই করতে পারবেনা ও আমাদের মাফিয়ার হাতে বিকি করে দিছে তার বৌর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ফিরিয়ে আনো।এর আগেই ও জন প্রতি এ দালালে ১০০০০০ এক লাক করে নিছে নিয়া আমাদেরকে আবার বিকি করে দিছে ছি,ছি, রুবেল দালাল তোর মার রক্ত গোলা পানি পান কর তোই মুসলিম নামের কলংক।

এবং এই ঠিকানায় ২লাখ টাকা দিয়ে দাও।ভাই খালেদ বললো আচ্ছা ঠিক আছে।ভাই বলও তোমাকে কি মারদর করতেছে। আমি মিত্যা বলে শান্তনা দেওয়ার আগেই। লাইন টা কেটে দিলো।

যাই হোক পরিবার অনেক কষ্টকরে টাকা যোগাড় করে এই ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলেন। এবার ফের গেইমে যাওয়ার পালা। ২দিন পরে আবার ডাক আসলো গেইমে যাওয়ার। ফের কাবার ভেনে করে সমুদ্র ঘাটে, রাখা হলো নির্জন ঘরে রাত্রে ৩ টা থেকে সারি বদ্ধভাবে একে একে করে নৌকায় উঠানু হল আগের কায়দায়। ঘাট ত্যাগ করলাম ভোর ৫ টায়। আবারও জনমনে আতঙ্ক আমরা কি যেতে পারবো?? আবার কি মাফিয়া এটাক হবে?? এখন মাফিয়া দরলে কি করবো?? সাগরে ঝাপ দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নাই। মনে মনে প্রস্তুত যে সাগরে ঝাপ দিবো কিন্তু আর লিবিয়ার দীকে ফিরবোনা! একেক জনের উপর আরেক জন এই ভাবে ধৈর্য দারণ করে বসে আছি।

আমাদের পাশের গ্রামের মমরুজপুরের সুহেল মিরপুরের লিপন, ছিলেন আমার সাথে এবারের গেইমে। তিনিও অনেক কষ্টে তাকা সত্যেও আমাকে শান্তনা দিতে তাকলেন। কোন চিন্তা করোনা আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন আল্লাহ আমাদের পৌঁছাবেন ইনশা আল্লাহ্‌।কিছুক্ষন চলার পরে দেখি লিবিয়া কোষ্টগার্ড এর একটি জাহাজ আমাদের দীকে ধেয়ে আসতেছে। সবার মনে আবারও আতঙ্ক এবারও বুঝি আর যাওয়া হলোনা ওপারে! এই জাহাজ টি দরে নিয়ে গেলে সরাসরি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।ভাবলাম বাংলাদেশে যাবোনা। পরিবার ধংষ করে আবার বাংলাদেশে ফিরতে চাইনা । মরবো সাগরে!

আল্লাহর কি ক্ষুদ্রত এরা আমাদের ছেড়ে দিলো বলল যে, তুমরা সামন দীকে এগিয়ে যাও কিছুক্ষন পরেই ইতালির সিমান্ত। মনে সস্থি ফিরে আসল , ড্রাইভার সোঝা নৌকা চালাতে তাকলো , সেই ভোর ৫ টাকা থেকে এখন প্রায় ২ টা এখন কোন উদ্ধারকারী জাহাজের দেখা মেলেনি !এদিকে সবাই বমি করছে পশ্রাব পায়খানা সহ প্রচুর গরমে সবাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। নৌকাও দূর্বল হয়ে পড়ছে, ছিদ্র হয়ে পানিঢুকতেছে অন্য দীকে তেল ও ফুঁড়িয়ে যাচ্ছে।

দীক বেদীক হয়ে সাগরের মধ্যে মা হারা শিশুর মতো ঘুরতেছি , এর মধ্য হটাৎ আবার দেখি একটি জাহাজ । কাছে গিয়ে পরিচয় পেলাম এটি পানামার তেল বহনকারী জাহাজ । সবাই চিৎকার করে সাহায্য চাইলাম। তারা বলল আপনারা অপেক্ষা করেন আমরা ইতালিয়ান সীপকে টেলিফোন করে বলতেছি আপনাদের কে উদ্ধার করার জন্য। কল করে তারাও আমাদের সাথে অপেক্ষা করল প্রায় বিকেল ৫ টা পর্যন্ত তার পর ইতালিয়ান কোষ্টগার্ডের দুটি বোট আসল এখানে এসে দেখে আরো দুটি প্লাস্টিকের বোট জমা হয়ে গেছে। তারা আমাদের রিসিভ না করে উক্ত প্লাস্টিকের বোট রিসিভ করে চলে গেলো এবং আমাদের অপেক্ষাকরার জন্য বলল।

ইতি মধ্যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে সাথে করে সাগরের উক্তাল বাড়েছে পানামার জাহাজটিও চলে গেলো!
আবার আমরা একা হয়ে গেলাম সাগরের মধ্যে। অন্য দীকে সাগর দিচ্ছি ভয়ঙ্কর হুংকার! নৌকাটিও বিকল হয়ে যাচ্ছে, নিচে তাকা মানুষের মধ্যে মাদারিপুরের কিছু ভাই নৌকাতে উসৃংখলা সৃষ্টি করে দিছে নৌকাটি ফেটে যাওয়ার সুর উঠেছে সবাই কালিমা পরে মরনের প্রস্থুতি আল্লহু আকবার! আল্লাহর ক্ষুদ্রত থেকে আবারো সবার মনে শান্তনা আসলো যে নৌকা এখনো কিছু হয়নি ।

তবে আর বেশিক্ষন যাবে না ! আমরা নির্ঘাত দূর্ঘটনার কবলে পড়তে যাচ্ছি! সাগরে ঢেউ আর ভয়ংকর গর্জন দিচ্ছে । কিছুক্ষন হলেই নৌকাটি ঢুবে যাবে। কিন্তু না! রাখে আল্লাহ মারে কে? ফেরেস্থার মত সামনে দেখি তুর্কির বাণিজ্যিক জাহাজ। রসি দিয়ে আমাদের নৌকার দুই মাতা বেধে ফেলল। কিছুটা আশ্রয় পেলাম আমরা এবার ইতালির কোষ্টগার্ডও এসে পড়লো কিন্তু রিসিভ করে না! তামাশা দেখে! তার কারণ এই নৌকায় অধিকাংশ বাঙালী! যারা লিবিয়ার শরণার্থী হয়ে ইউরোপে ঢুকার জন্য এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে।

সাহায্য সাহায্য চিৎকাত করতেনা করতেই কিছুক্ষন পরে সাগরের ঢেউয়ে নৌকাটি তুর্কির শিপে লেগে ফেটেই গেলো! এবার তুর্কির জাহাজ বসে না থেকে একটি রশি ছুড়ে দিলো জান বাচানোর জন্য অর্ধেক লোক ঝুঁকি নিয়ে তুর্কির জাহাজে উঠে গেলেন রয়ে গেলাম আমরা মুষ্টিমে বাঙালী ও আফ্রিকান তিউনিসের কয়েক জন । সবার ধারণা যোদি ইতালিয়ান বোট আমাদের রিসিভ না করে তাহলে মরতে হলে সাগরে মরবো কিন্তু তুর্কির জাহাজে উঠে কোন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বোনা।

যাই হোক ইতালিয়ান বোট এবার অল্প লোক দেখে রিসিভ করতে এগিয়ে আসল এবং আমরাও উঠে পড়লাম ইতালিয়ান বোটে….. ফিরে পেলাম এক নতুন জীবন। আবার জেন সাগরের বুক থেকে জন্ম নিলাম। এবং সরাসরি চলে আসলাম ইতালিতে……. আল্লাহর রহমতে মা-বাবা আত্মিয় সজনের দু’আয় অবশেষে মরতে মরতে বেঁচে গেলাম।

লেখক: ইতালী প্রবাসী মোঃ লুৎফুর রহমান

About Kuy@s@News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*