ভূমিকম্পের রহস্যের সন্ধান করছেন এক বাঙালি

ভূমিকম্পের রহস্য কী? সেই জট খোলার লক্ষ্য নিয়ে ভারতের এক পার্বত্য এলাকায় মাটির গভীর থেকে গভীরতর স্থানে গর্ত খুঁড়ে যাচ্ছেন ভূতত্ত্ববিদেরা। ঠিক যেখানে এই প্রকল্প, সেই জায়গাটির নাম গোথানে। আর এই কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক বাঙালি।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় মহারাষ্ট্র অঙ্গরাজ্যের তিন হাজার ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট একটি মালভূমি। চারদিকে পাহাড় আর ঘন জঙ্গল। এই জঙ্গল হচ্ছে এশিয়ান কৃষ্ণসার মৃগ, বুনো শুয়ার আর হরিণের বিচরণ ভূমি। এখান থেকে দশ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে কোয়েনা নামের এলাকা থেকে ১৯৬৭ সালে উৎপন্ন হয়েছিল ৬.৩ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পের। ওই ভূমিকম্পে ১৭৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, আহত হয়েছিলেন আরও দুই সহস্রাধিক। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল ব্যাপক মাত্রার।

কোয়েনা থেকে বিশ কিলোমিটার দূরে ওয়ার্না নদীতে ১৯৮৭ সালে আরেকটি জলাধার তৈরি করা হয়। পাঁচ বছর না যেতেই এটির কাছে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্প পরিমাপের বেশীরভাগ যন্ত্রপাতিই হয় ভূপৃষ্ঠের উপরে নয়তো অগভীর কোন গর্তে স্থাপিত। বিজ্ঞানীরা এখন মনে করছেন, মাটির সুগভীরে গর্ত খুড়ে, ফল্ট এলাকার মধ্যে যন্ত্রপাতি বসিয়েই কার্যকরভাবে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

 আপনার নিজের একটি ওয়েব সাইট ফ্রিতে বানাতে নিচের লিংক থেকে সাইন আপ করুন।

VPS Business Hosting Starting at $29.95
Includes 24/7 premium technical support, cPanel/WHM, SSH access. Enter CODE: ‘GREEN’ for 5% OFF

ভারতীয় বিজ্ঞানীর অবশ্য এক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন আমেরিকার বিজ্ঞানীদের দ্বারা। মার্কিন বিজ্ঞানীরা স্যান আন্দ্রেজের ভূমিকম্প জোনের গভীরে সরাসরি গর্ত খুঁড়েছিলেন ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণের জন্য। ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ভূতত্ত্ববিদেরা কোয়েনার নয়টি এলাকায় দেড় কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত গর্ত বা বোরহোল খুঁড়েছেন। গত ডিসেম্বরে তারা পাইলট বোরহোলটি খুঁড়তে শুরু করেন। নানা রকম চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দিনরাত কাজ করে ছয় মাস পর গত দুই মাসে তাদের ড্রিল করার যন্ত্রটি মাটির তিন কিলোমিটার গভীরে একটি কঠিন শিলাস্তরে গিয়ে ঠেকে। সেখানকার তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই বর্ষা মৌসুম শেষ হলে বিজ্ঞানীদের ইচ্ছে তারা ওই বোরহোলটি দিয়ে সেন্সর, থার্মোমিটার, সিসমোমিটার এবং স্ট্রেসমিটার নামিয়ে দেবেন মাটির গভীরে। তারপরই মাটির নিচের নানা পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু হবে, জানিয়েছেন ভূপদার্থবিদ ড. সুকান্ত রায়। তিনিই এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবেই এখানেই শেষ হচ্ছে না। সবকিছু ঠিক থাকলে তারা আরো গভীরে ড্রিল করবেন, অন্তত পাঁচ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত পৌঁছানোর ইচ্ছে তাদের।

 

About Kuy@s@News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*