জান্নাতি হতে হলে নিচের এই দশটি আমল করুন

জান্নাত পেতে কে না চায়। তবে জান্নাত পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা যে আমলগুলো আমাদের করতে বলেছেন সে আমলগুলো আমরা করি কি? যদি না করে থাকে তাহলে আজই তাওবা করে নিচের এই দশটি আমল করুন।

১। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন বস্তুর কথা বলব না, যার ওপর আমল করলে তোমরা অগ্রগামীদেরকে পেয়ে যাবে এবং তোমাদের পরবর্তী কেউ তোমাদের ধারেকাছে আসতে পারবে না? আর তোমরা হবে সর্বোত্তম তাদের মধ্যে? তবে তারা তোমাদের মত হতে পারবে, যারা অনুরূপ আমল করবে। প্রতি নামাযের পর তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ বলবে, তেত্রিশবার আলহামদুলিল্লাহ এবং তেত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলবে। আর একশত পূর্ণ করবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কদীর।’ (বুখারী শরীফ, হাদীস-৭৯৮)

২। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশত বার ‘ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কদীর’ বলবে, সে দশজন গোলাম আযাদ করার সাওয়াব পাবে।

তার আমলনামায় একশটি নেকি লিখে দেয়া হবে। তার গুনাহের খাতা থেকে একশটি গুনাহ মুছে দেয়া হবে। আর সেই দিন সন্ধা হওয়া পর্যন্ত তাকে শয়তান থেকে নিরাপদে রাখা হবে। তারমত এমন উত্তম আমল কেউ করেনি, তবে সেই ব্যক্তি, যে তার চেয়ে

বেশি পড়েছে। (বুখারী শরীফ, হাদীস-৩০৫০)

৩। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দিনে একশত বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী’ বলবে, তার গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়া হবে। যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হোক না কেন। (বুখারী শরীফ, হাদীস-৫৯২৬)

৪। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, দুটি বাক্য, মুখে উচ্চারণ করতে অতি হালকা, মিযানের পাল্লায় অতি ভারি, আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। ‘সুবহানাল্লাাহি ওয়া বিহামদিহী’ এবং ‘সুবহানাল্লাহিল আযীম’। (বুখারী শরীফ, হাদীস-৫৯২৭)

৫। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, পৃথিবীর যাবতীয় বস্তু থেকে ‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ বলা আমার নিকট অনেক বেশি প্রিয়। (মুসলিম শরীফ, হাদীস-৪৮৬১)

৬। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার বিনিময়ে তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন।’ (মুসলিম শরীফ, হাদীস-৫৭৭)

৭। হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অধিকাংশ সময় রাসূলুল্লাহ সা. এই দুআ করতেন, ‘আল্লাহুম্মা আ-তিনা ফিদ-দুন-য়া হাসানাতান, ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতান, ওয়াকিনা আযাবান নার’। (বুখারী শরীফ, হাদীস-৫৯১০)

৮। হযরত আবু মুসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়স! আমি কি তোমাকে জান্নাতের খনিসমূহের একটি খনির সন্ধান তোমাকে দেব না? আমি বললাম, অবশ্যই দিন ইয়া রাসূলাল্লাহ সা.! তিনি বললেন, তা হলো ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’।

(মুসলিম শরীফ, হাদীস-৪৮৭৫)

৯। হযরত শাদ্দাদ ইবনে আউস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, সমস্ত ইস্তেগফারের সর্দার হলো ‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খলাকতানী ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাস-তাতাতু, আউযু বিকা মিন শাররি মা ছনাতু, আবু-উ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবু-উ লাকা বিযামবী, ফাগফিরলী, ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা’।

যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দিনের বেলা এটি পাঠ করবে এবং সন্ধার পূর্বে মারা যাবে, সে নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি রাতে পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগেই মারা যাবে, সেও নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করবে।

(বুখারী শরীফ, হাদীস-৫৮৩১) ১০। হযরত জুওয়াইরিয়া বিনতে হারেস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, আমি তোমার নিকট থেকে যাবার পর চারটি বাক্য তিনবার বলেছি। যদি উহাকে ওজন করা হয় তুমি এতক্ষণ যা বলেছ তার সাথে, তবে আমার তিনবার বলা চারটি বাক্যই বেশি ভারি হবে। ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী আদাদা খলকিহী, ওয়া রিযা নাফসিহী, ওয়া যিনাতা আরশিহী, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহী’। (মুসলিম শরীফ, হাদীস-৪৯০৫)

About Kuy@s@News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*