হাসিনাকে হত্যার জন্য টার্গেট করা হয়েছে

পঁচাত্তরের অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একই গোষ্ঠী হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য।

শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে শোক দিবসের এক আলোচনায় এসে বিএনপি-জামাত জোটকে ‘খুনির দল’ আখ্যা দিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেন মন্ত্রী।

নাসিম বলেন, “পঁচাত্তরেও আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার শক্তি কারও ছিল না। কিন্তু তারা পেছনের দরজা দিয়ে এসে সেদিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল।

“তার মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য কাজ করছে বলে এখন তাকে টার্গেট করা হয়েছে।”

দলের নেতাকর্মীদের ‘সর্বোচ্চ সর্তক’ থাকার নির্দেশনা দিয়ে নাসিম বলেন, “খুনির দলকে ছাড় দেওয়া হবে না। পঁচাত্তরের খুনিদের কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না।”

পঁচাত্তরের খুনিদের আশ্রয় ও মদদ দেওয়ার লোক দেশে এখনো আছে বলে মনে করেন তিনি।

“পঁচাত্তরের সেই বেঈমানদের আশ্রয় দেওয়ার লোক তখনও ছিল, এখনও আছে। মোশতাক, জিয়া, এরশাদ ও খালেদা বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় এসে তাদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের পার্লামেন্টের মেম্বার পর্যন্ত করেছে। সেদিনের সুবিধাভোগীরাই বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।”

জেল হত্যার শিকার জাতীয় চার নেতার একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলীর ছেলে নাসিম বলেন, “আমরা রাজপথে নেমে মার খেয়ে, স্লোগান দিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার বিচারের দাবিতে। ক্ষমতায় এসে তারা বড় বড় কথা বলেছে, কিন্তু হত্যার বিচার করেনি।

উল্টো খুনিদের বাঁচাতে ইনডেমনিটি আইন হয়েছিল। অনেক বিচারপতি তার বিরোধিতা করেননি। সম্মান রেখে বলছি- তাদের কেউ কেউ রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন।”

আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠী আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ‘পঁচাত্তরের খুনি চক্র’ জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবসে রাজধানীর পান্থপথে একটি আবাসিক হোটেলে জঙ্গি বিরোধী অভিযানের কথা তুলে ধরেন নাসিম।ওই অভিযানে নিহতের ও তার সংগঠনের সঙ্গে পঁচাত্তরের খুনি চক্রের যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন তিনি।

“এবার ১৫ অগাস্টে সেই একই চক্রান্ত হয়েছে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ, তারা তা আগেই উদঘাটন করতে পেরেছে। কিন্তু খুনিদের পথ ও তাদের চক্রান্ত কিন্তু এখনও বন্ধ হয়নি, তা চলছে।”

পান্থপথের ওই ঘটনার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, “এসব কার ইঙ্গিতে হচ্ছে…? উনি বিদেশে বসে আছেন।”

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন মোহাম্মদ নাসিম। বিএনপির পক্ষ থেকে সংলাপের কথা বলা হলেও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য তা নাকচ করে দেন।

“তাদের সঙ্গে কিসের সংলাপ? সংবিধান মোতাবেক নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর তা হবে শেখ হাসিনার অধীনে। সে নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে, আমরা তা মেনে নেব।”

আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি সালাউদ্দিন বাদল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন।

About Kuy@s@News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*