অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা

অস্ট্রেলিয়া দলের আগমন উপলক্ষে স্টেডিয়াম ও হোটেল এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে তিন স্তরের নিরাপত্তা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আসন্ন সিরিজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

এর আগে তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ করার সক্ষমতা এখনো আমাদের হয়নি। সাইবার ক্রাইমকে কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে চেষ্টা আমরা করছি। বভিন্ন দেশের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধি-নিষেধ রয়েছে। আমাদের সরকারও সাইবার সিকিউরিটি আইনের কাজ হাতে নিয়েছে যা পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

জানা গেছে, আগামী ২৭ থেকে ৩১ আগস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। পাঁচ দিনের এই খেলা হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হবে দুই দলের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে কোনো থ্রেটের কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ১৫ আগস্টে যারা নাশকতার অপচেষ্টা করেছিল, আমাদের তৎপরতার কারণে তা নস্যাৎ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, একটি দুষ্টচক্র যারা বাংলাদেশের ভালো চায় না, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র চায় না, তারাই নানা রকম অপচেষ্টা করতে পারে এটি মাথায় রেখেই আমাদের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আগামী ২৭ থেকে ৩১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার টিম ঢাকায় টেস্ট ম্যাচ লেখবে, এ জন্য পুলিশ-বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড), ডিবি (মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা) ও অন্যান্য বাহিনী মিলে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মানুষ নির্বিঘ্নে যাতে খেলা দেখতে পারে, সেজন্য তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুরো স্টেডিয়াম এলাকা সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠ ও গ্যালারিকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। খেলোয়াড়রা যখন হোটেল রেডিসন থেকে স্টেডিয়ামে আসবেন, তখন মিরপুর ১০ নম্বর থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত ভাসমান দোকান তুলে দেয়া হবে, স্থায়ী দোকানগুলো ওই সময়ের জন্য ব্ন্ধ রাখা হবে।

হোটেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চারপাশ লাইটিংসহ আনা হয়েছে সিসিটিভির আওতায়। বসানো আছে আর্চওয়ে, লাগেজ স্ক্যানার, ভিকেল স্ক্যানার। এগুলোর মধ্য দিয়ে প্রত্যেককে চেক করে নিয়ে আসা হবে। কোনো ধরনের দর্শনার্থী প্রবেশের অনুমতি থাকবে না। এমনকি কোনো গণমাধ্যম অনিয়মিতভাবে কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নিতে পারবে না। এক্ষেত্রে বিসিবির যথাযথ অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া হোটেল রেডিসন থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত খেলোয়াড়দের ভিভিআইপিদের মতো নিরাপত্তা দেয়া হবে। সেজন্য পুলিশ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স টহল সর্বদা থাকবে।

জাল টিকিট নিয়ে প্রবেশ ঠেকাতে ম্যানুয়াল ও মেশিনে তল্লাশি করা হবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

তিনি জানান, সবাইকে আর্চওয়ে ও ম্যানুয়েল চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে হবে। ধারালো চাকু, কাঁচি, ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ, দিয়াশলাই, ট্রলি ব্যাগ, ব্যানিটি ব্যাগ, পানির বোতল না নিয়ে স্টেডিয়ামে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয় তার পক্ষ থেকে।

একই সাথে গ্যালারিতে সবাইকে নির্ধারিত আসনে বসেই খেলা দেখার আহ্বান জানিয়েছেন আছাদুজ্জামান মিয়া।

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সময় দর্শকরা গ্যালারিতে নির্ধারিত আসনে বসেন না। এবার কড়াকড়ি থাকবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ আসনে বসতে হবে। এ ব্যাপারে জোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এর আগে আজ তেজগাঁওয়ে এফডিসিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অবাধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি, ব্র্যাক এবং এটিএন বাংলার যৌথ অয়োজনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগীতায় আংশ নেন ডিএমপি কমিশনার।

এ সময় তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের সক্ষমতা আমাদের হয়নি।

তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ আমাদের দেশে নতুন করে শুরু হয়েছে। সেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণেরও চেষ্টা করছে সরকার। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি কিছু কিছু অ্যাপস ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ থাকা জরুরি। যেমন: হোয়াটস অ্যাপ, থ্রিমা। এসব অ্যাপসে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই আমাদের তথপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে কাজ করছে। শুধুমাত্র এই সাইবার সিকিউরিটি আইন করে নয় এসব অ্যাপসের যারা সরবরাহকারি তাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যার চেষ্টা সরকার করে যাচ্ছে। কারণ চুক্তি না থাকলে তারা আমাদের তথ্য দিবে না। চুক্তি হলেই বিভিন্ন সামাজিক যগোযোগ মাধ্যমের অ্যাপসগুলোর যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করা যাবে।

কমিশানার বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কিশোর তরুণদের অবাধ ব্যবহার ও আসক্তির কারণে অপরাধ প্রবণতাসহ নানান ধরণের সামাজিক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। একই সাথে তরুণরা গ্যাং কালচারে জড়িয়ে মাদকাসক্তি, হত্যা ও খুনের মতো জঘন্য কাজ করছে। যা থেকে পরিত্রাণের জন্য পিতা-মাতা, অভিভাবক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তাদের সন্তানদের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে। যাতে করে তারা প্রয়োজন ছাড়া অবাধে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার না করতে পারে।

About Kuy@s@News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*